স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পূর্বশত্রুতার জেরে অণ্ডকোষে আঘাত ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখার তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পিবিআই ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ জন আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নবীনগর থানাধীন মহেশপুর গ্রামের সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান গত ২৯ মার্চ ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৬ সকালে স্থানীয় রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাত হোসেন গত ১২ আগস্ট ২০২৬ আখাউড়ার খড়মপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে ১নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ সাগর (২০)-কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে সাগরের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে অপর দুই আসামি মোঃ সাদ্দাম (৩৬) ও মোঃ বোরহান (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি সাগর বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে।
পিবিআইয়ের তদন্তে প্রকাশ পায়, ভিকটিম আতিক এবং আসামি সাগর পরস্পর বন্ধু ছিল। ঘটনার রাতে আসামিরা একত্রিত হয়ে মাদক সেবন ও লুডু খেলে। খেলা শেষে পূর্ববিরোধ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আসামি বোরহান উত্তেজিত হয়ে আতিকের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর একটি কালো রঙের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং আলামত লুকাতে মরদেহ বস্তাবন্দি করে পুকুরের নিচে গাছের শিকড়ের সাথে বেঁধে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের সাঁড়াশি অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


