৫১ লাখ টাকার ঘোষণায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার পণ্য!

৫১ লাখ টাকার ঘোষণায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার পণ্য!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বেনাপোল স্থলবন্দরে মাত্র ৫১ লাখ টাকার পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য নিয়ে আসার নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কাস্টমসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ‘নামকাওয়াস্তে’ রাজস্ব দিয়ে এই বিশাল চালানটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আলোচিত ও বিতর্কিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকা চকবাজারের ‘টিএল ট্রেডিং’-এর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান এবং বেনাপোলের বিতর্কিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘সোহাগ ইন্টারন্যাশনাল লি:’-এর মালিক আল আমিন সোহাগ যোগসাজশ করে এই শুল্ক ফাঁকির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিএল ট্রেডিং ৬৮৭ প্যাকেজের ইমিটেশনের একটি পণ্য চালান আমদানি করে। যার ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছিল ৪১ হাজার ৩০১ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ১২৩.৫৬ টাকা হিসেবে যা প্রায় ৫১ লাখ সাড়ে তিন হাজার টাকা)। যার মেনিফেস্ট নম্বর: ৬০১/২০২৬/০০৩/০০৪৭২৭৯/০৮। পণ্য চালানটির মোট ওজন ২৮ হাজার ২৬৮ কেজি এবং নিট ওজন ১৬ হাজার ৮৫৪ কেজি। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি পরীক্ষা করতেই বিশাল ফাঁকি ধরা পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতি প্রকাশের পর কাস্টমসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরোক্ষ সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার তওফিকুর রহমান ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে শুল্ক গোয়েন্দাদের দিয়ে রাতে পণ্য চালানটি সাময়িক ‘লক’ করা হয়। কিন্তু অলৌকিক কারণে সকালে কাস্টমসের কাছে মাত্র ২ হাজার ৪০ কেজি পণ্য বেশি থাকার রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, এই চালানে অন্তত ৬ হাজার কেজি বা ৬ মেট্রিক টন অতিরিক্ত উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য রয়েছে।

চালানটির নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের কোনো কাস্টম হাউসে যেখানে ইমিটেশনে সাধারণত ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ টিআর (ট্যারেট রেট) দেওয়া হয়, সেখানে এই চালানের ৫৭১ প্যাকেজ ইমিটেশনে ৭১.৪৩ শতাংশ টিআর দেখানো হয়েছে—যা প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

কাস্টমস ও বাজার দর অনুযায়ী, ৫৭১ প্যাকেজ ইমিটেশন পণ্যের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া চালানে থাকা ৭১ প্যাকেজ কাচের চুড়ির আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা, ১৫ প্যাকেজ সেফটিপিনের মূল্য ১২ লাখ টাকা এবং ১৪ প্যাকেজ লেডিস ব্যাগের মূল্য ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে এমটি বক্স ও আর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার সহ সব মিলিয়ে পণ্য চালানটির প্রকৃত ন্যূনতম আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে এই চালানের শতভাগ যৌথ পরীক্ষা করা হলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অসাধু সিন্ডিকেটের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী কমিশনার তওফিকুর রহমান এবং জয়েন্ট কমিশনার শরফুদ্দীন মিয়ার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

যশোর শিক্ষা বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবিতে চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি

ষষ্ঠীতলা রেলগেটে অভিযান : দুই ইয়াবাসেবী ও কারবারি ডিবির জালে

সৎ কাজের মাধ্যমেই জান্নাত অর্জিত হয় : যশোরে শিবির সভাপতি সাদ্দাম

সচিবের অপসারণের দাবিতে 'চেতনায় চিরঞ্জীব' ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ উত্তাল

যশোর শিক্ষা বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ

যশোরে গলায় ফাঁস ও ছাদ থেকে পড়ে পৃথক দুজনের মৃত্যু, বিষপানে শিক্ষক চিকিৎসাধীন

ঝিকরগাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ আর নেই

দুই পরিবারের সীমানা বিরোধের রোষানলে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ!

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য : যশোরে জামায়াত সমর্থককে পুলিশের কাছে সোপর্দ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *