
স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিজ্ঞাপন
যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ বসতঘরের ভেতর একই খাটের ওপর থেকে মা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী শিশুসন্তানের ক্ষতবিক্ষত ও সন্দেহজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত অবুঝ শিশুটির দুই হাত ও পা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং মায়ের গলায় পেঁচানো ছিল ওড়না। নৃশংস ও রহস্যঘেরা এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী জু বায়দা খাতুন (৩২) এবং তাঁদের এক মাত্র ৬ বছরের শিশুপুত্র জিসান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘরের ভেতর একই বিছানায় মা ও সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। এ সময় শিশু জিসানের হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। অন্যদিকে মা জুবায়দার গলায় ওড়না পেঁচানো থাকলেও ওড়নার দুই প্রান্ত তাঁর নিজের দুই হাতের মুঠোয় ধরা ছিল। দৃশ্যটি দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে চরম সন্দেহের উদ্রেক হয়।
নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিনজিরা অভিযোগ করে জানান, তাঁর বোনজামাই জাকির দীর্ঘকাল বিদেশে উপার্জনের পর বছরখানেক আগে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর থেকেই ভাসুর শিহাবের সঙ্গে জাকিরের বসতভিটা ও জমিজমা নিয়ে তীব্র শত্রুতা চলছিল। উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বোন ও ভাগ্নেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জোর দাবি জানান।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, জাকির হোসেনের পরিবারের সাথে গ্রামের বাইরের অন্য কারো দৃশ্যমান শত্রুতা ছিল না।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, লাশের অবস্থান এবং পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যবেক্ষণ করে এটিকে স্বাভাবিক কোনো আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের পরেই মূল সত্য জানা যাবে। ছবি সংগৃহীত।

