স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর এলাকায় ‘সিদ্দিক পেট্রোল পাম্প’ এর পাশে গড়ে ওঠা একটি অনুমোদনহীন ও দুর্ধর্ষ ভেজাল মবিল ও স্পেয়ার পার্টস কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)। আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের দূরদর্শী কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের সুদক্ষ ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সেখানে এক বিশালাকার ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযানকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ নামীদামী বিদেশী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত ভেজাল মবিল, গ্রিজ, মোটরসাইকেলের নকল বিয়ারিং, বিবিধ পার্টস, কেমিক্যাল, বোতল, লোগো ও লেবেলসহ জালিয়াত চক্রের ব্যবহৃত নানা আধুনিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যশোর শহরের রেল রোডস্থ ‘সি অ্যান্ড বি’ মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘নিসা অটোমোবাইলস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই প্রতারণা। তারা নিজেদের বিদেশী পণ্যের আমদানিকারক হিসেবে দাবি করলেও মূলত মনোহরপুরের এই গোপন কারখানায় অতি নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নকল ও ভেজাল মবিল, গ্রিজ এবং মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ তৈরি করে প্যাকেটজাত করতো। পরবর্তীতে সাধারণ গ্রাহকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশী আসল পণ্য হিসেবে চড়া দামে তা বাজারে বাজারজাত করে আসছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের চৌকস আভিযানিক দল নিয়ে সরেজমিনে হাজির হয়ে অপরাধ চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে র্যাব-৬। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সর্বসাধারণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী যানবাহন চালকেরা মেজর ফজলে রাব্বির এই দূরদর্শী ও গণমুখী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা মনোহরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন এই ভেজাল কারখানার সত্যতা পাই। বিদেশী ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে ভেজাল ও নকল পণ্য তৈরির মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের সাথে বড় ধরণের প্রতারণা করছিল।”
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যশোর শহরের রেল রোডস্থ ‘সি অ্যান্ড বি’ মসজিদের পাশে ‘নিসা অটোমোবাইলস’ নামক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন ইলিয়াস। নিজেদের বিদেশী পণ্যের আমদানিকারক দাবি করলেও তিনি মূলত মনোহরপুরের এই গোপন আস্তানায় অতি নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নকল ও ভেজাল মবিল ও পার্টস প্যাকেটজাত করে আসল বা ইম্পোর্টেড বলে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করতেন।
অভিযান চলাকালে অপরাধ ও জালিয়াতির সত্যতা হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধি ও সংশ্লিষ্ট ভোক্তা অধিকার আইনে কারখানা মালিক ইলিয়াস হোসেনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ১ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ছবি সংগৃহীত।


