স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শেখহাটি জামরুলতলা এলাকায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মীর চরম বেপরোয়া আচরণ ও অসাবধানতার কারণে এক ভয়াবহ বৈদ্যুতিক বিপর্যয় ঘটেছে। বৈদ্যুতিক পিলারে অবৈধভাবে টানা ইন্টারনেটের তারে হঠাৎ সজোরে টান দেওয়ায় বিকট শব্দে স্পার্কিং হয়ে অন্তত ৭-৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ সহ মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শেখহাটি জামরুলতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিটিসিএলের এক কর্মী গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের নতুন সংযোগ দেওয়ার জন্য জামরুলতলার একটি বৈদ্যুতিক পিলারে ওঠেন। সেখানে মূল ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইন্টারনেটের তারটি তিনি সজোরে টান দেন। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে পিলারে স্পার্কিং ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
হাই-ভোল্টেজের এই হঠাৎ শর্ট সার্কিটের ধাক্কায় আসেপাশের দোকানগুলোতে থাকা ফ্রিজ, সিলিং ফ্যান, টেলিভিশন ও বাল্বসহ সংবেদনশীল সব যন্ত্রাংশ পুড়ে বিকল হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিটিসিএলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন এবং পাওয়ার বিভাগকে খবর দেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এসে লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঠিক দুই দিন আগেও গভীর রাতে জামরুলতলা ভাই ভাই হোটেলের সামনের বৈদ্যুতিক পিলারে একইভাবে অবৈধ ইন্টারনেটের তার থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। বারবার এমন বিপর্যয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ঘটনার বিষয়ে বিটিসিএলের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, “অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তাঁরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বা প্রয়োজনীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পিডিবি বা পাওয়ার লাইনের বৈদ্যুতিক পিলারে এভাবে ডিশ ও প্রোভাইডারদের ইন্টারনেট সংযোগের তার পেঁচিয়ে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”
এলাকার ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, শহরের প্রতিটি বৈদ্যুতিক পিলারে ইন্টারনেটের তারের ‘বিপজ্জনক জটলা’ বা মাকড়সার জাল তৈরি হয়েছে। ৪৪০ ভোল্টের লাইনে এভাবে অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ দেওয়ার কারণেই ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা অগ্নিকাণ্ড এড়াতে বৈদ্যুতিক পিলার থেকে অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ ইন্টারনেট ও ডিশের তার অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ছবি সংগৃহীত।


