স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামে নিজ গর্ভধারিণী ও স্বজনদের সহযোগিতায় জন্মদাতা পিতাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠা দুই বোন এবার জমিজমা আত্মসাৎ ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত চক্রের চক্রান্ত, অপতৎপরতা ও স্বজনদের ওপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে মাকাপুর গ্রামবাসীর পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বার্তা পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ইমামুল হোসাইন মানিক।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, মাকাপুর গ্রামের প্রয়াত হায়দার আলীর পরিবারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে বিষয়-সম্পত্তির লোভে পড়ে হায়দার আলীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় তাঁর দুই মেয়ে স্নেহলতা পারভীন বিউটি ও লাকী, মা লতিফা এবং তাঁদের দুই ভাই আল ইমরান ও ইমামুল হাসান রুবেল। এমনকি পিতাকে মেরে ফেলার চেষ্টাও চালানো হয়। এ সময় লন্ডন প্রবাসী মেজো ছেলে ব্যারিস্টার মোর্তুজা পিতাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাঁদের ওপর ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করানো হয়। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পিতাকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এ সংক্রান্ত হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা পূর্বে কারাবাসও খেটেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ওই মামলা এবং জমি সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে পার পেতে বিউটি ও লাকী নিয়মিত আত্মীয়স্বজন ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের জড়িয়ে চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলের যে দাবি তারা করেছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও সাজানো নাটক।
সংবাদ সম্মেলনে ইমামুল হোসাইন মানিক দাবি করেন, অভিযুক্ত বিউটির বিরুদ্ধে হত্যা, প্রাণনাশের চেষ্টা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০ থেকে ১১টি ঝুলন্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া বিউটির ভাই রুবেল ২০১৫ সালে নিজ আপন চাচা শাহিদুলকে কুপিয়ে জখম করার অপরাধে জেল খাটেন। এরা জোর করে অন্যের জমি কবজা করা, কৃষকের ধান কেটে নেওয়া এবং এলাকার সার্বিক শান্তি বিনষ্টে লিপ্ত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রামবাসী ও স্বজনেরা এই অত্যাচারী চক্রের কবল থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, কাসেম আলী, আনসার আলী, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ এলাকার সাধারণ জনতা। ছবি সংগৃহীত।

