স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র মাইকপট্টি এলাকার একটি চারতলা ভবন থেকে মিম (২৩) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত/নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাজী তাজের আলী মার্কেটের চারতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে উক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ১০ দিন আগে বাসাটি একা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন মিম। গতকাল সোমবার সারা দিন কয়েক জন বান্ধবী তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাতে বান্ধবীরা সরাসরি তাঁর ভাড়া বাসায় আসেন। দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করার পরও ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না মেলায় তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবন্ধ ঘরের দরজা খুলে ভেতরের কক্ষ থেকে মিমের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে রাতেই মরদেহটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের সহকর্মী ও পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে মিমের প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) ঘটে। পরবর্তীতে তিনি দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তবে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে ব্যাপক পারিবারিক ও দাম্পত্য মনোমালিন্য চলছিল বলে সহকর্মীরা জানান।
মিম যশোর শহরের একটি বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসকের সহকারী (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পদে কর্মরত ছিলেন। তবে কাজে চরম অন্যমনস্কতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ এনে চলতি আগস্ট মাসের ১ তারিখে তাঁকে উক্ত চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিল। চাকরি হারানো ও পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি চরম মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক আলামত পর্যবেক্ষণ করে ঘটনার বিষয়টি ‘আত্মহত্যা’ বলে অনুমান করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য বা পারিবারিক/দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না—তা সবদিক বিবেচনায় রেখে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে লাশ পাওয়া যায়। আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা না অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” ছবি সংগৃহীত।

