মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক কোমলমতি ছাত্রীকে স্কুলের ওয়াশরুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামে এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা তাকে গণধোলাই দিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিকেল ৪টার দিকে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে জানানো হয়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর হাতে চিরকুট লিখে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। ছাত্রীটি ওয়াশরুমে গেলে তিনি তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেখান থেকে রক্ষা পেয়ে বাড়ি ফিরে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ার আলী জানান, ওই অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করতেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেন। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, জনরোষ থেকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমকে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে বুধবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। ছবি সংগৃহীত।

