নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক ঐতিহাসিক ও বিশেষ অভিযানে সর্বকালের রেকর্ড পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে নড়াইল সদর থানাধীন মালীরবাগ মোড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি নড়াইল জেলা কার্যালয়ের একটি আভিযানিক দল।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ (ঢাকা মেট্রো ব-১১৪৬৫৮) নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে বাসের ভেতরের সামনের সিটে বসা মো. ইয়াকুব সরদার (৪০) নামের এক যাত্রীর ডান হাতে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে স্কচটেপে মোড়ানো ৪০টি বিশেষ পলি প্যাকেটে মোট ৮,০০০ (আট হাজার) পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে উদ্ধারকৃত এই বিশাল ইয়াবা চালানের অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। নড়াইলের ইতিহাসে একক কোনো মামলায় এটিই এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ ইয়াবার চালান।
ঘটনাস্থল থেকে মূল অভিযুক্ত নড়াইল সদরের দিঘলীয়া ভদ্রবিলা গ্রামের মো. গণি সরদারের ছেলে মো. ইয়াকুব সরদার (৪০) এবং তাঁর প্রধান সহযোগী কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের আফছু মোল্যার ছেলে মো. সুজন মোল্যাকে (৩৩) হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, গ্রেফতারকৃত দুজনেই পেশায় বাস শ্রমিক। তারা দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহনে যাতায়াতের সুবাদে পরিবহন শ্রমিকের আড়ালে অভিনব কৌশলে যশোর ও নড়াইলের সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে খুলনা বিভাগজুড়ে কেনাবেচা করে আসছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে নড়াইল জুড়ে এ ধরনের সারপ্রাইজ অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত।
