নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদরাসায় সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম (১২) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, মাদরাসার এক শিক্ষকের অতিরিক্ত প্রহারের কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ গেছে ওই শিশুর। ঘটনাটির পর এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন শিক্ষককে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
নিহত সুলাইমান নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ ইকরাম আলির ছেলে। সে আউড়িয়া গ্রামের ‘মারকাযুল কুরআন নড়াইল’ নামের একটি মাদরাসার আবাসিক শাখায় থেকে লেখাপড়া করত।
বিজ্ঞাপন
স্বজন ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শেষ রাতে মাদরাসার বোর্ডিংয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে সুলাইমান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে যশোরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই না ফেরার দেশে চলে যায় সুলাইমান।
শিশুটির পিতা সৈয়দ ইকরাম আলির দাবি, শিক্ষকের অমানবিক ও বেপরোয়া মারধরের দরুন তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তাঁর বক্তব্য, রাত তিনটার দিকে সুলাইমান হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে সেখানে তাকে প্রাথমিক পরিচর্যা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সকালে তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় দাবি করে তিনি জানান, প্রশাসনিক তদন্তে কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানার পর নড়াইল থানা পুলিশ দ্রুত সরজমিনে গিয়ে তথ্যসংগ্রহ শুরু করে এবং ঘটনার জট খুলতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্য থেকে ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম জানান, শিশু সুলাইমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের অফিসিয়াল রিপোর্ট হাতে এলেই এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

