নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানাধীন কোটাকোল এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. তৈয়ব আলী মোল্লা (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নড়াইলের উদ্যোগে গত ০৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে লোহাগড়া থানাধীন কোটাকোল খেয়াঘাটসংস্থ কোটাকোল বাইতুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তার ওপর তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানকালে একটি খয়েরী রঙের লাগেজ ব্যাগের ভেতর স্কচটেপ দ্বারা আবৃত অবস্থায় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মোট ৭টি প্যাকেটে সর্বমোট ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম অবৈধ গাঁজা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এ ছাড়া আসামির পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে ‘Redmi-12c’ মডেলের একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।
বিজ্ঞাপন
অভিযানকালে মো. তৈয়ব আলী মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার আপন চাচাতো ভাই মো. আকরাম মোল্লা (৪৬) পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার তৈয়ব মোল্লা পেশায় একজন ট্রলারচালক এবং পলাতক আকরাম মোল্লার বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর উত্তরপাড়া গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এলাকার নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়ার তেলকাড়া, মহাজন ঘাট ও কোটাকোল ঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও চোরাচালান করে আসছে। গ্রেপ্তার তৈয়বের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা না থাকলেও পলাতক আকরাম মোল্লার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে লোহাগড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নড়াইলের পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত-২০২৬) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় লোহাগড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজু করার পর আসামিকে থানায় সোপর্দ করা হয় এবং থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতক অপর আসামি আকরাম মোল্লাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
