স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী বিল সংলগ্ন ‘এএফ মৎস্য খামারে’ ব্যাপক পরিসরে মাছের অকালমৃত্যুর নেপথ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে প্রধান অনুঘটক হিসেবে খারিজ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি।
বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে সরজমিনে উপস্থিত হয়ে খামার সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণ, বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড পর্যালোচনা ও পুকুরের পানির গুণগত মান সায়েন্টিফিক উপায়ে পরীক্ষা করে তদন্ত কমিটি। সংগৃহীত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২২ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে ২টা থেকে আনুমানিক ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত ছিল। তবে তদন্তে এটি স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই খামারে ব্যাপকভাবে মাছ মারা যাওয়া শুরু হয়েছিল এবং অপরাপর সময়গুলোতে বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বাভাবিক ছিল।
বিজ্ঞাপন
কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে খামারের বেশ কিছু মারাত্মক ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে পুকুরে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাছের পোনা মজুতকরণ, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্য উপাদান প্রয়োগ, পানিতে অ্যামোনিয়ার তীব্র আধিক্য ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি, মাত্রাতিরিক্ত ফাইটোপ্ল্যাংকটনের উপস্থিতি, অপর্যাপ্ত এরোটর ব্যবস্থা এবং জরুরি সময়ে ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চরম অভাব অন্যতম।
যশোর জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে, উল্লেখিত প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাগুলোর যৌথ প্রভাবেই খামারের মাছগুলোতে মড়ক লেগেছে। ফলে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রচারিত দাবির কোনো বাস্তব বা তথ্যগত ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এমতাবস্থায় জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই ছাড়া সামাজিক কিংবা গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।


