স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানা মোড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’-এর বিরুদ্ধে নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা ডিম প্যাটিস বিক্রি এবং প্রতিবাদ করায় ক্রেতাকে হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই বাসি প্যাটিস খেয়ে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিবিসি নিউজের যশোর প্রতিনিধি এম এইচ উজ্জ্বল নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে চারটি ডিম প্যাটিস কিনে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় পরিবারের সদস্যরা তা খাওয়া শুরু করলে তাঁর ছোট মেয়ে প্যাটিসে প্রথম কামড় দেওয়া মাত্রই বিষাক্ত দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরবর্তীতে প্যাটিসটি কেটে ভেতরের অংশে পচে যাওয়া ও বিজল ভাব দেখতে পান স্বজনরা।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ওই পচা প্যাটিসের সামান্য অংশ পেটে যাওয়া মাত্রই তাঁর ছোট মেয়ের তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর দুই সন্তানই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নষ্ট প্যাটিসগুলো নিয়ে পুনরায় দোকানে গিয়ে প্রমাণ দেখালে প্রথমে কর্মচারীরা খাবারটি পচা বলে স্বীকার করেন। তবে ঘটনাটি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে দোকানে দায়িত্বরত এক কর্মচারী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন এবং যা ইচ্ছা তাই করার হুমকি দেন।
উজ্জ্বল আরও জানান, ইতিপূর্বেও তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের বাসি খাবার কিনে প্রতারিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার পচা খাবার খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ও দোকান কর্তৃপক্ষের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহারে ক্রেতাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পচা উপাদান দিয়ে খাদ্য তৈরি, অনিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রতিবাদী ক্রেতার সাথে বেপরোয়া আচরণের ঘটনায় শহরের সচেতন মহল চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের খাদ্য প্রস্তুত প্রণালী ও সংরক্ষণাগার সরজমিনে পরিদর্শন করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

