স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা কৃষক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকার বাসিন্দা নূরনবীকে নৃশংসভাবে মারধর, দুই হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটার দীর্ঘ ১৩ বছর পর ভুক্তভোগী নূরনবী বাদী হয়ে যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পালের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক অভিযোগটি পর্যালোচনা করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন— যশোর-৬ আসনের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তহিদুর রহমান ওরফে ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র রেন্টু চাকলাদার, শফি ওরফে পাইপ শফি, কালাম, রুবেল এবং রিন্টু।
বিজ্ঞাপন
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক ৭টার দিকে ফন্টু চাকলাদার ফোন করে নূরনবীকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কাঁঠালতলার কার্যালয়ে ডেকে নেন। নূরনবী সেখানে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং তাঁর মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে শাহীন চাকলাদার স্বয়ং ঘটনাস্থলে এসে গালিগালাজ করে তাঁকে হত্যার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এর পরপরই আসামিরা নূরনবীকে একটি ইজিবাইকে তুলে কাজীপাড়া আমতলা রোডের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে ধারালো ছুরি দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই চোখ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত এবং লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ও ডান পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। হামলা শেষে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘাতকেরা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার পেয়ে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
মামলার বাদী নূরনবী জানান, আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি এতদিন আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি। বর্তমানে দেশে বিচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সুবিচারের আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।ফাইল ছবি সংগৃহীত।


