টিকটকের ভণ্ড তান্ত্রিক গুরু ও পাগলা মসজিদের খাদেম ‘জীবন কবিরাজ’ আটক

টিকটকের ভণ্ড তান্ত্রিক গুরু ও পাগলা মসজিদের খাদেম ‘জীবন কবিরাজ’ আটক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে নিজেকে কথিত তান্ত্রিক ও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের খাদেম পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভাঙার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ চক্রের এক মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. মিজানুর রহমান (২৫)। তিনি জামালপুর জেলার সদর থানার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকালে নিজ গ্রাম থেকে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন এবং একাধিক ভুয়া সিম কার্ড জব্দ করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক নারী টিকটক আইডি ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’-এর প্রচারিত ভিডিও দেখে নিজের পারিবারিক জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে দেওয়া ইমু নম্বর ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। যোগাযোগের সূত্র ধরে চক্রটি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয় এবং বিভিন্ন কবিরাজি উপকরণ কেনার কথা বলে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দফায় দফায় বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কোনো কাজ না হওয়া এবং প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে আসামি তাকে অলৌকিক ক্ষমতার ভয়ভীতি দেখায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই এসআই অ্যান্ড ও (উত্তর) স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই নাজমুল হকের নেতৃত্বে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় জামালপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান একাধিক টিকটক আইডি ব্যবহার করে নিজেকে পাগলা মসজিদের খাদেম দাবি করতেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আকৃষ্ট করতে প্রাচীন কবিরাজি সরঞ্জাম যেমন- পশুপাখির হাড়, মাছ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ দিয়ে ভিডিও তৈরি করে টিকটকে প্রকাশ করতেন।

পিবিআই বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কার ও আবেগকে পুঁজি করে এই চক্রটি প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত তান্ত্রিক বা অলৌকিক সমাধানের প্রলোভনে না পড়ার জন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *