পূর্বধলায় দোকানে কর্মরত শিশুকে বলৎকার : মাদরাসা পরিচালক স্থানীয়দের হাতে আটক

পূর্বধলায় দোকানে কর্মরত শিশুকে বলৎকার : মাদরাসা পরিচালক স্থানীয়দের হাতে আটক

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিজ মালিকানাধীন ফার্মেসির শিশু কর্মচারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শোবার ঘরে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদরাসা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে স্থানীয় সচেতন জনতার সহায়তায় অভিযুক্তকে নিজ বাড়ি থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল (৫০)। তিনি পূর্বধলা উপজেলার একটি স্থানীয় কওমি মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তাঁর সেই ফার্মেসিতেই কাজ করত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে রোববার রাতে পূর্বধলা থানায় একটি লিখিত মামলা ও অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের সূত্রে প্রকাশ, প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিন রাতে ফার্মেসির কাজ শেষ করে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত দুলাল শিশুটিকে কাজ আছে বলে ডেকে নিজের শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান তিনি।

অভিযুক্তের নির্মম নির্যাতনের পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের স্বজনদের কাছে পুরো ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত দুলালকে ঘিরে ফেলে এবং থানা পুলিশে সংবাদ দেয়।

খবর পাওয়ার পরপরই পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন ও পূর্বধলা থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং শিশুর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একই বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জঘন্য। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে যথাযথ ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *