স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জামালপুরে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক সম্পর্কের জেরে ইশরাত জাহান মিমি নামের এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বিজ্ঞাপন
গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জামালপুর সদর থানাধীন পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেইট সংলগ্ন বাবুল মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে নিহতের মা মোছাঃ মুক্তা বেগম বাদী হয়ে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা দুইজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল ৫:৪৫ ঘটিকায় জামালপুর সদরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ কাউসার আহমেদ খান (৩২)-কে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ দিয়েছে।
পিবিআই-এর তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর পূর্বে নিহত মিমির সঙ্গে আসামি কাউসারের পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিমি গোপনে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছিলেন।
ঘটনার দিন মিমি আসামি কাউসারকে তাঁর ভাড়া বাসায় ডেকে এনে পুনরায় টাকা দাবি করলে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এতে চরম উত্তেজিত হয়ে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


