বিচারক দম্পতির বাসার গ্রিল কেটে ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি !

বিচারক দম্পতির বাসার গ্রিল কেটে ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

জামালপুর জেলায় কর্মরত বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় গ্রিল কেটে ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চুরির সাথে সরাসরি জড়িত ও চোরাই মালামাল কেনাবেচায় যুক্ত মোট ৫ জন আসামীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আড়াই ভরি স্বর্ণ ও ২৬ ভরি রুপার অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় জামালপুর সদর থানাধীন আমলাপাড়া এলাকায়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জনাব আহমাদুল কবির শাকিল ও বিজ্ঞ বিচারক জনাব নুসরাত জেরিন জেনি দম্পতির ভাড়া বাসার জানালার গ্রিল কেটে চোরের দল অলঙ্কার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির এ.কে.এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই জামালপুর জেলাকে প্রদান করেন। পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রূপন কুমার সরকার (পিপিএম-বার)-কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পিবিআই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৫ আগস্ট চুরিতে জড়িত মূল আসামী মো. রাহুল (২৪) ও মো. বিশাল (২১)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় অপর আসামী মো. দুখু মিয়া (২৪)-কে।

আসামীদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুর পৌরসভার বানিয়া বাজার থেকে মো. মাসুদ রানা ও মাদারগঞ্জের মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেনকে গত ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে পিবিআই।

পরবর্তীতে আসামীদের তথ্যমতে, মাসুদ রানার হেফাজত থেকে গলানো অবস্থায় ২৩.১৯ গ্রাম (প্রায় ২ ভরি) স্বর্ণ এবং মোশারফ হোসেনের হেফাজত থেকে ৮ আনা ৫ রতি স্বর্ণ ও ২৬ ভরি ওজনের রুপার অলঙ্কার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

পিবিআই জানায়, চোর চক্রটি ঘটনার দিন সুপরিকল্পিতভাবে বিচারক দম্পতির বাসায় হানা দেয়। চক্রের ২ জন বাহিরে পাহারায় থাকে এবং ৩ জন জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা ও অলঙ্কার চুরি করে। চুরি শেষে তারা পার্শ্ববর্তী রেললাইনের পাশে বসে চুরির মালামাল নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো চোর সিন্ডিকেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদ ও মোশারফের কাছে বিক্রি করে দেয়।

গ্রেফতারকৃত মূল ৩ আসামী মো. রাহুল, মো. বিশাল ও মো. দুখু মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা সবাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট চোরাই মালামাল উদ্ধারে পিবিআই’র অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *