নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ :
অভাবের তাড়নায় জর্জরিত সংসারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, নিজের পায়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে পরিবারের হাল ধরার অদম্য স্বপ্ন—একটি সেলাই মেশিনেই যেন সেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে গেল। ঝিনাইদহে অসহায়, দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সরকার নিবন্ধিত বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সুমিত্র হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর গ্রামের অসচ্ছল উপকারভোগী নারী মেহেরুন নেছার হাতে প্রধান অতিথি সেলাই মেশিনটি তুলে দেন। এই সময় সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংস্থার এই মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ওই নারীর আত্মকর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের মাঝে এই সেলাই মেশিন বিতরণ করেন ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অসিত কুমার সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বশির আহম্মেদ এবং রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. সাব্বির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক। পুরো আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক শামীমা সারমিন স্নিগ্ধা। এছাড়া অনুষ্ঠানে সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার জেলা কার্যালয়ের ম্যানেজার দেবদাস কুমারসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অসিত কুমার সাহা বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা নারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমেই মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’-র এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গঠনমূলক কার্যক্রম নারীদের মানসিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনেও অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. সাব্বির হোসেন তাঁর বক্তব্যে জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত ও অসহায় নারীদের নিজ পায়ে দাঁড় করানোর জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর সর্বদাই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী দিনগুলোতেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র পরিবারের একটি সেলাই মেশিন কেবল উপার্জনের সাধারণ কোনো উপকরণ নয়; বরং এটি একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, পারিবারিক মর্যাদা এবং পূর্ণ স্বনির্ভরতারও বড় অবলম্বন। ঝিনাইদহের মতো এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে সর্বত্র বাস্তবায়িত হতে থাকে, তবে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ব্যক্তিগত জীবনের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি তাদের পুরো পরিবারেও ফিরে আসতে পারে চিরকাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ও আশার আলো। ছবি সংগৃহীত।

