স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে একদিনেই পৃথক দুটি স্থানে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চৌগাছায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে লাফ দিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং যশোর জেলা শহরের কুইন্স হাসপাতালের প্রধান সড়কের পাশে অপর এক যুবককে রহস্যজনক অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ও সন্ধ্যায় যশোর জেলার দুটি ভিন্ন এলাকায় ঘটনা দুটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে চৌগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপুর গ্রামের ‘কানা পুকুর’ এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণফোনের একটি উঁচু নেটওয়ার্ক টাওয়ারে উঠে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা টিটো (৪০)। তিনি উক্ত ইছাপুর গ্রামের জামাত আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিটো দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মানসিক পারিবারিক ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং গত বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। বুধবার সকালে হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে তিনি টাওয়ারে উঠে ওপর থেকে নিচে লাফ দেন। এতে তাঁর শরীর গুরুতর রক্তাক্ত ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সকাল ৭টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুইন্স হাসপাতালের সামনের প্রধান সড়কের ওপর তাহসান আহমেদ (৩০) নামের এক যুবককে দীর্ঘক্ষণ অচেনা ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে কুইন্স হাসপাতালের কতিপয় স্টাফ দ্রুত এগিয়ে এসে যুবককে উদ্ধার করেন এবং যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তাহসান আহমেদ পিরোজপুর জেলার নাসিরাবাদ থানার গাজীবাড়ি-পাটকেলবাড়ি গ্রামের নূরুল ইসলাম মৃধার ছেলে। তিনি কী উদ্দেশ্যে যশোরে এসেছিলেন এবং কীভাবে সড়কের পাশে এমন অচেতন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, “রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন আছে কি না বা তিনি বিষক্রিয়া/হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না—তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।”
বর্তমানে নিহত তাহসানের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সাথে পুলিশ নিহতের পরিবারকে খবর প্রদানসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। ছবি সংগৃহীত।

