স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজন, শোভাযাত্রা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মধ্য দিয়ে ৩১তম বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ এবং সপ্তাহব্যাপী ফিজিওথেরাপি সেবা সপ্তাহ (৭-১৩ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ উপলক্ষে ‘হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে যবিপ্রবি মূল ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (র্যালি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে কেক কাটার মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একাত্ম হয়ে অংশ নেন।
কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে পিটিআর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফিরোজ কবিরের সভাপতিত্বে এক মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত জটিল চিকিৎসায় আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিষদ বক্তব্য উপস্থাপন করেন দেশের বিশিষ্ট নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সুমন কবীর। তিনি বলেন, “ফিজিওথেরাপি স্রেফ একটি সাধারণ আনুষঙ্গিক চিকিৎসা নয়—এটি গুরুতর অসুস্থ মানুষকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, তাঁদের হারিয়ে যাওয়া কর্মক্ষমতা পুনর্দখল করা এবং সমাজে পুরোপুরি আত্মনির্ভরতার পথে ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বাধুনিক মাধ্যম।”
সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আবু হায়দার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, স্ট্রোকসহ যেকোনো জটিল স্নায়বিক (নিউরো) রোগে আক্রান্ত রোগীদের মাংসপেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতা দূর করে দ্রুত স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে বৈজ্ঞানিক ফিজিওথেরাপি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা পালন করে। অপর বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাইমিন জিসান তাঁর বক্তব্যে যোগ করেন, হৃদরোগ ও ফুসফুস সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় বিশ্বজুড়ে এখন বিশেষায়িত কার্ডিয়াক ও চেস্ট ফিজিওথেরাপি প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা রোগীর শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারসহ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সুস্থতায় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণ হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সুপ্ত প্রতিভার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিশ্বমঞ্চে তাঁরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।”
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. মো. ফিরোজ কবির পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বৈজ্ঞানিক ফিজিওথেরাপি আধুনিক সমসাময়িক চিকিৎসা ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণ জনগণের মধ্যে ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে সঠিক সচেতনতা বাড়িয়ে সমাজের সর্বস্তরে মানসম্মত পুনর্বাসনসেবা পৌছে দিতে যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং পিটিআর বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

