বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার! যশোর বোর্ডে উত্তীর্ণ  ৮৮ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী

বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার! যশোর বোর্ডে উত্তীর্ণ ৮৮ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বহু প্রতীক্ষিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বইছে আনন্দের আমেজ। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মোট ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সারাদেশের ন্যায় যশোর বোর্ডেও একযোগে এই ফল প্রকাশিত হয়। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হাতে পাওয়ার পরপরই কৃতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা গেছে উল্লাস ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। বিভাগওয়ারী উত্তীর্ণদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৪ হাজার ১৭ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছে।

মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানে ছেলে ৪ হাজার ৮০৯ ও মেয়ে ৫ হাজার ৩২৭ জন; মানবিকে ছেলে ১৭৯ ও মেয়ে ৭৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ১৩৯ ও মেয়ে ২৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

তবে বিগত বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় এবার বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কিছুটা নিম্নমুখী। গত বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফলের এই পার্থক্যের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মতিন জানান, “শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের সঠিক ও যথার্থ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার খাতায় অহেতুক নম্বর দেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বোর্ড বেরিয়ে এসেছে। ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বলতার কারণে পাসের হার সামান্য কমলেও সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক।”

এদিকে ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বোর্ডের অধীনস্থ ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। যেখানে গত বছর শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ২টি। বিষয়টি উদ্বেগের উল্লেখ করে বোর্ড সচিব জানান, এসব শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফল প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত জিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ঢল নামে বিভিন্ন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বাঁধভাঙা উল্লাস, সহপাঠীদের সঙ্গে কোলাকুলি ও মিষ্টি মুখের মধ্য দিয়ে সাফল্যের এই আনন্দ স্মরণীয় করে রাখে শিক্ষার্থীরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *