নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে টানা দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক বিক্রয়যোগ্য মুরগি শ্বাসরোধে ও তীব্র গরমে মারা গেছে।
বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এতে জীবিকা অর্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম হতাশা ও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন খামারের দুই তরুণ উদ্যোক্তা মো. হাসান ও মো. হোসেন। তারা পরস্পর যমজ ভাই।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী হাসান ও হোসেন বুইকরা গ্রামের দিনমজুর মোহাম্মদ আলী ও মরজিনা বেগম দম্পতির সন্তান। আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে দীর্ঘ দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে বেকারত্ব ঘোচাতে ২০২৩ সালে এনজিও থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন দুই ভাই। বছর পাঁচেকের জন্য বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে ২৫ শতক জমি ভাড়া নিয়ে তারা গড়ে তোলেন এই পোলট্রি খামার। পুরো পরিবারের কঠোর পরিশ্রমে খামারটি লাভজনক হয়ে উঠছিল এবং সংসারে ফিরিয়েছিল স্বচ্ছলতা।
খামার মালিক হাসান জানান, তাদের ফার্মে আড়াই হাজারের মতো ছোট-বড় মুরগি ছিল। যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি মুরগি পুরোপুরি বিক্রির উপযোগিতা লাভ করেছিল। কিন্তু গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পুরো এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন ছিল। দীর্ঘ সময় ফ্যান বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত গরমে এবং অক্সিজেনের অভাবে একে একে বিক্রয়যোগ্য চার শতাধিক মুরগি মারা যায়।
অশ্রুসজল কণ্ঠে উদ্যোক্তা মো. হাসান বলেন, “আমাদের সব স্বপ্ন এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল। ধারদেনা আর এনজিওর ঋণ নিয়ে আমরা দুই ভাই এই খামার গড়ে তুলেছিলাম। বাবা-মা সহ দিনরাত খামারের পেছনে খেটেছি। এবার মুরগিগুলো বিক্রি করে দেনা মিটিয়ে ফেলার চিন্তা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।” তিনি জানান, শুধু খাদ্য ও ওষুধের দোকানেই তাঁদের সোয়া লাখ টাকার মতো বাকির বোঝা রয়েছে, যা এখন কীভাবে শোধ করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
অনাকাঙ্ক্ষিত এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সনজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাতে উপজেলার সরখোলা এলাকায় মূল বিদ্যুতের তারের ওপর নারিকেল গাছ উপড়ে পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্ধকার রাতের কারণে তাৎক্ষণিক মেরামত সম্ভব হয়নি, তবে শনিবার সকালে দ্রুততম সময়ে লাইনটি সচল করা হয়। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


