নিখোঁজ গৃহবধূর ১১ টুকরো লাশ উদ্ধার : মাথা ও পা এখনো নিখোঁজ !

নিখোঁজ গৃহবধূর ১১ টুকরো লাশ উদ্ধার : মাথা ও পা এখনো নিখোঁজ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক নিঃসঙ্গ গৃহবধূর অত্যন্ত নৃশংস ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ফরিদা বেগম (৫৫) নামের ওই বৃদ্ধাকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ ছোট ছোট টুকরো করে মোট ১১টি পৃথক পলিথিনের প্যাকেটে বস্তাবন্দি করে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শরীরের খণ্ডাংশগুলো উদ্ধার করলেও এখনো নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথা ও দুই পা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকাসংলগ্ন দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের এক বসতবাড়িতে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত ফরিদা বেগম স্থানীয় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তাঁর স্বামী জাহাজে চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান করেন এবং দুই কন্যার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম ওই বাড়িতে একা বসবাস করতেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাসার একমাত্র ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে (৩৫) স্থানীয় উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি শেষে ফরিদা বেগম ঘরে না ফেরায় তাঁর ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহতের বোনের ছেলে মামুন ঘরের পেছনের আবর্জনা ফেলার স্থানে সন্দেহজনক কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে পলিথিন খুলে রক্তাক্ত খণ্ডিত দেহ দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসার ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং প্রহার শেষে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ জনতা ঘেরাও সৃষ্টি করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং লাইলীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, থানা হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লাইলী বেগম সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। একই সাথে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও চার সহযোগীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে মোড়ানো মরদেহের বেশ কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটককৃত লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি খণ্ডাংশ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

হোটেল মালিকের ছেলে পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ : কক্সবাজারে নিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের উন্মোচন

কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যায় সুমন গ্রেপ্তার

'প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন'-নবজাতকের প্রাণহানির পর ফেসবুকে চিকিৎসকের উসকানিমূলক মন্তব্য

কুবি সহযোগী অধ্যাপকের নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার

গৃহকর্ত্রীকে নৃশংস হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুট!

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাইক চোরাচালানের অভিনব কৌশল,কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইস্পোর্টস বাইক জব্দ

হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে 'আপা' বলায় ক্ষোভ : 'স্যার-ম্যাডাম' ডাকার নোটিশ ঘিরে বিতর্ক

‘যাকে পছন্দ হয় না তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন’: ছাত্রদল নেতাকে এসপির কড়া জবাব

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *