স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে সরকারি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক সম্মানীর তালিকায় প্রকৃত স্বনামধন্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে জামায়াত নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে চরম অসন্তোষ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের প্রকৃত দায়িত্বরত ইমাম ও খাদেমের নাম ছাঁটাই করে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পর তদন্তের মুখোমুখি না করে উল্টো ওই মসজিদটিকে সম্মানী তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে প্রতি মাসে দেশের ইমামদের জন্য পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিনদের তিন হাজার এবং খাদেমদের জন্য দুই হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা আহ্বান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় কেশবপুরে প্রথম দফায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুসারে ইউনিয়ন প্রতি আটটি মসজিদের তালিকা স্থানীয় বিএনপি প্রতিনিধি এবং বাকি সাতটি মসজিদের তালিকা সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করে পাঠানোর কথা ছিল।
সংসদ সদস্যের অংশের অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি মসজিদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের ওপর অর্পণ করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদে বহু বছর ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রকৃত ইমাম মাওলানা আব্দুল রহমান এবং খাদেম আব্দুল রাজ্জাকের নাম রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় অন্যায়ভাবে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও জামায়াত নেতা তবিবুর রহমানকে ‘ইমাম’ এবং গড়ভাঙ্গা ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে ‘খাদেম’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্যসহ তালিকা জমা দেওয়া হয়।
প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত প্রতিকার চান। লিখিত অভিযোগের পর সংসদ সদস্য ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের ভার দেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামালকে। তবে ভুক্তভোগী অধিবাসীদের অভিযোগ, কোনো তদন্ত পরিচালনা না করে এবং সংসদ সদস্যের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে দলীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সেই জালিয়াতিপূর্ণ সুবিধাবাদী তালিকাটিই জমা দেওয়া হয়েছিল।
জালিয়াতির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে উক্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসলাম সরদার জানান, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কোনো প্রকার আলোচনা করা হয়নি। এলাকার জামায়াত নেতারা সম্পূর্ণ নিজেদের মনগড়া ও পছন্দের ব্যক্তিদের নাম বসিয়ে সরকারি দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাসুদ কামাল দাবি করেছেন, মসজিদ কমিটি থেকে তাঁর কাছে যেভাবে তালিকা প্রদান করা হয়েছিল, তিনি হুবহু সেটিই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
সামগ্রিক কেলেঙ্কারী নিয়ে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী জানান, গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের প্রণীত তালিকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এবং কমিটির অভ্যন্তরে নানাবিধ বিভক্তি পরিলক্ষিত হওয়ায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই মসজিদটিকে বর্তমান সরকারি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

