স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দেশের বর্তমান খোলাবাজারে সুস্বাদু ইলিশের কেজি যখন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় ঠেকেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র ৮০০ টাকায় চাঁদপুরের আসল পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ বিক্রির চোখধাঁধানো লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়েছে একটি চক্র। চটকদার ও লোভনীয় প্রচারণার ফাঁদে পা দিয়ে শত শত ক্রেতা বিকাশ বা রকেটে আগাম টাকা পাঠিয়ে অসাধু এই চক্রের হাতে প্রতারিত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নড়াইল থেকে প্রতারক চক্রের দুই মূলহোতাকে সফলভাবে আটক করেছে চাঁদপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত দুই ব্যক্তি হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার হাবিবুর রহমান (৪১) ও নয়ন মৃধা (৩৫)। গত বুধবার রাতে কালিয়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে প্রকাশ, চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নিবন্ধিত এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তারা কখনোই অগ্রিম টাকা দাবি করে না এবং কেবল ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ শর্তে ক্রেতাদের হাতে তাজা ইলিশ পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ সামাজিক অপরাধীরা অনলাইনে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও চটকদার বিজ্ঞাপন তৈরি করে অবিশ্বাস্য কম দামে ইলিশ বিক্রির ফাঁদ পাতে। ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ ক্রেতারা আগাম টাকা পাঠানোমাত্রই প্রতারকেরা যোগাযোগ বন্ধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা আইডি বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, চাঁদপুরের বিশ্বখ্যাত পদ্মা-মেঘনার সুস্বাদু ইলিশের সুনামকে হাতিয়ার করে একটি সুচতুর চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ পেতে আসছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতারা অগণিত অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও নিখুঁত প্রযুক্তিগত তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল নড়াইলে অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করে।
চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সস্তায় ইলিশ সরবরাহের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরা দীর্ঘ দিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরপূর্বক অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

