স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত যশোর জেলাজুড়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯২ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৩৪৪ জন রোগী। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে দুজনের মৃত্যু লিপিবদ্ধ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অভয়নগর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৮ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, কেশবপুরে ২ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন এবং মণিরামপুরে ১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে বাঘারপাড়া, চৌগাছা ও শার্শা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে। এছাড়া অভয়নগরে ২৮ জন, শার্শায় ১৬ জন, কেশবপুরে ১২ জন, মণিরামপুরে ৯ জন, বাঘারপাড়ায় ৮ জন এবং ঝিকরগাছায় ৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ৩০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভিসাইড স্প্রে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্যালাইনসহ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসা-বাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ছবি সংগৃহীত।

