স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় এক নবজাতকের করুণ মৃত্যুর পর ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার দাবি ও সংবাদ প্রকাশের জেরে পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে তীব্র কটূক্তি ও ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস দিয়ে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে তিনি লেখেন, প্রসববেদনা শুরু হলে যেন প্রসূতিরা সরাসরি সাংবাদিকদের কাছে যান। এমনকি পানি ভাঙা কিংবা প্রসবসংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সেই চিকিৎসা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যেন গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেই সোপর্দ করা হয়—এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রামের খামার পুষ্করণী এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি নাজমা আক্তারকে সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। অভিযোগ ওঠে, উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর নামে টেনেহিঁচড়ে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে পেটেই শিশুটি মারা গেলে স্বজনেরা দেখতে পান নবজাতকের মাথার খুলিতে গভীর আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এদিকে প্রসূতি নাজমার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে তড়িঘড়ি করে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর স্বজনরা চিকিৎসকের অদক্ষতা ও চরম গাফিলতিকে দায়ী করে গণমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দায়সারা জবাবে ডা. কেয়া বলেন, রোগী আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে পরিবারের ওপর দায় চাপান। ঘটনার পরপরই নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তিপূর্ণ পোস্ট দেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা এই উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল জানান, “ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।
