স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৫ বছরের জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ তার নিজ এলাকা যশোরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর তাকে যশোরের ছাতিয়ানতলায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিজ এলাকায় কিশোরী জান্নাতুলের মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরো ছাতিয়ানতলা এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা।
এর আগে কুমিল্লার লালমাইয়ের পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে গামছায় গলা প্যাঁচানো ও মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা অবস্থায় জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান এই আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাইয়ের পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, নিহতের লাশের ঠিক পাশেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই স্কুলছাত্রী। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করছে বলে জানায়। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে সে তার বাবার মোবাইলে একটি জরুরি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে দ্রুত গিয়ে নিয়ে আসার অনুরোধ করে। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে জেগে মেসেজ ও লোকেশন দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি এবং সেখানে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলার পর পুলিশি তদন্ত শুরু হলে সিএনজিচালক সুমনের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সুমনকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। ছবি সংগৃহীত।

