গৃহকর্ত্রীকে নৃশংস হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুট!

গৃহকর্ত্রীকে নৃশংস হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুট!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুনকে (৬০) স্বশয়ন কক্ষে শ্বাসরোধে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মোঃ মাসুম বিল্লা প্রকাশ রবিনসহ (৩১) মোট তিন আসামিকে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পিবিআই ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে চান্দিনার অলিপুরে নিজ বসতঘরের বিছানা থেকে ছমিরন খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের কাঠের আলমিরা খোলা, কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং নগদ ৭০,০০০ টাকা ও প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ মোট তিন লাখ টাকার মালামাল গায়েব পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, ধান কাটার কাজ করতে আসা বাইরের শ্রমিকরা টাকা-স্বর্ণসহ হাওয়া হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা (মামলা নং-০১, তারিখ-০৩/০৫/২০২৬; ধারা-৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোড) রুজু করেন। থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় গত ১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে পিবিআই কুমিল্লা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আমিরুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছেন।

পিবিআই টিম নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ মে থেকে ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ক্র্যাশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭) এবং পরবর্তীতে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে শিশু অপরাধী আরাফাত হোসেনকে (১৪) গ্রেফতার করে। তাঁদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ চার মাসের ধারাবাহিক তদন্ত শেষে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী মোঃ মাসুম বিল্লা প্রকাশ রবিনকে (৩১) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

পিবিআইয়ের গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, আসামিরা মূলত প্রকৃত ধানকাটা শ্রমিক ছিল না; তারা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারী ঘাটে সহকর্মী হিসেবে কাজ করত। চুরির অসৎ উদ্দেশ্যে কৌশল অবলম্বন করে ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা কুমিল্লার চান্দিনায় ওই বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ঘটনার দিন রাতে কাজ না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামীর সাথে শ্রমিকদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়।

পরবর্তীতে রাত গভীর হলে গৃহকর্ত্রী ও তাঁর স্বামী নিজ নিজ পৃথক কক্ষে ঘুমাতে যান। পাশাপাশি পাশের ঘরে ভুক্তভোগীর ছেলে ও পুত্রবধূ ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাত আনুমানিক ১:০০ টা থেকে ১:৩০ টার মধ্যে আসামিরা সুপরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে। বৃদ্ধা ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় তাঁকে চাদর বা হাত দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর আলমিরা ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে রাতের আঁধারেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

গ্রেফতারকৃত তিন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

পিবিআই কুমিল্লার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা গ্রেফতার ও অপরাধ স্বীকার করলেও মামলার অপরাপর আনুষঙ্গিক তথ্য ও আলামত জব্দের জন্য বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *