জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
“পুলিশ ও সাংবাদিক একসাথে, মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে, সচেতনতার বার্তা সবার সাথে”— এই গঠনমূলক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় জীবননগর থানা স্টেডিয়ামে জীবননগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
উক্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে অংশ নেয় জীবননগর প্রেসক্লাব একাদশ এবং জীবননগর থানা পুলিশ একাদশ। খেলায় চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্ এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ সশরীরে মাঠে নেমে পুলিশ একাদশের হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় দুই দলের খেলোয়াড়রাই চমৎকার ক্রীড়াশৈলী ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে জীবননগর প্রেসক্লাব একাদশ ও জীবননগর থানা পুলিশ একাদশ ১-১ গোলে সমতায় থেকে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও বিভিন্ন বয়সের বিপুল সংখ্যক সাধারণ দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে আকর্ষণীয় এই ম্যাচটি উপভোগ করেন।
পুরস্কার বিতরণের আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার বলেন, “খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আজকের তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিক সমাজের সুদৃঢ় সম্পর্কের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”
এই প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিকভাবে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুশীল সমাজ ও ক্রীড়া সংগঠকরা। ছবি সংগৃহীত।


