চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর, আবার সেই প্রথম স্ত্রীকেই গোপনে বিয়ে করে সঙ্গে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানতে পেরে চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনরা ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে ওই প্রবাসীর পুরো বসতবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও বিরল ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ইতিমধ্যে ভেকু দিয়ে বসতঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও মিশ্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে খেজুরতলা গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী রমজান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের (২৭) সাথে একই গ্রামের সোনিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। রফিকুল বিদেশে থাকাকালীন সোনিয়া অন্য এক প্রবাসীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়িতে অনশন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জল গড়ায় পুলিশ পর্যন্ত এবং রফিকুল সোনিয়াকে তালাক দিয়ে একই এলাকার মুকুল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করেন।
তবে রফিকুলের এই দ্বিতীয় সংসার বছরখানেক স্থায়ী হওয়ার পর সম্প্রতি ঘটে নতুন নাটকীয়তা। স্থানীয়রা জানান, গত ১০ দিন আগে রফিকুল তাঁর সাবেক স্ত্রী সোনিয়াকে আবারও গোপনে বিয়ে করেন এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।
বিষয়টি জানাজানি হতেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর জের ধরেই রোববার সকালে ভেকু এনে প্রবাসীর বসতঘর এক মুহূর্তে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দীন বলেন, “সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভেকু দিয়ে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। রফিকুল যদি প্রতারণা করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মুকুল হোসেন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ফোনে জানান, “রফিকুল আমার মেয়ের জীবনটা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলে আমার মেয়েকে বিয়ে করল, আবার গোপনে ওই মেয়েকে বিয়ে করে বিদেশে চলে গেল! এখন আমার মেয়েটার ভবিষ্যতের জবাব কে দেবে?”
অন্যদিকে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করায় এ নিয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি মৌখিকভাবে অবগত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

