জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজের গভীর নলকূপ থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি ও ভিতরের তামার তারসহ মূল্যবান মালামাল পাচারকারী এক আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঢাকা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালিয়ে ঘটনায় ব্যবহৃত যানবাহনসহ এই চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গত ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে জীবননগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠে কৃষক আবু জাফর বিশ্বাসের সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ৩টি (প্রতিটি ১০ কেভি) এবং পার্শ্ববর্তী অন্য একটি সেচ প্রকল্প থেকে ১টি—সর্বমোট ৪টি ট্রান্সফরমারের ভিতরের তামার তার ও তেল চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপরাধীরা। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি যৌথ চৌকস দল তদন্ত শুরু করে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ২০২৬ গভীর রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন খোলামোড়া এলাকা থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপসহ মালেক (৪৫) নামের এক আসামিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্য ৫ সদস্য—শিপলু হোসেন, তসলিম ওরফে টুলু, স্বপন উদ্দিন, সবুজ শেখ ও জাফর আহম্মেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আটককৃতদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়: ১. আব্দুল মালেক (৪৫), স্থায়ী সাং- চাষিড়ি, টংগীবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ; বর্তমানে- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। ২. স্বপন উদ্দিন (৩৭), সাং- গাড়াবাড়ীয়া, চুয়াডাঙ্গা। ৩. শিপলু হোসেন (২৮), সাং- ফার্মপাড়া, চুয়াডাঙ্গা। ৪. সবুজ শেখ (৩৭), সাং- গাড়াবাড়ীয়া, চুয়াডাঙ্গা। ৫. জাফর আহম্মেদ (৩৮), সাং- জাফরপুর, চুয়াডাঙ্গা। ৬. তসলিম ওরফে টুলু (৪৪), স্থায়ী সাং- শাখোহালী, কাহালু, বগুড়া; বর্তমানে- ফার্মপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে নিখুঁতভাবে ট্রান্সফরমারের তেল ও দামি তামার তার চুরি করে বিক্রি আসছিল। চুরির পরিকল্পনা, রিকি করা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং মালামাল পরিবহনে তাদের আলাদা আলাদা দল সক্রিয় ছিল।
জব্দকৃত যানবাহনের মধ্যে রয়েছে চুরির কাজে ব্যবহৃত ১টি পিকআপ ও ১টি মাইক্রোবাস। আসামিদের ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


