চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ এবং এর নীল ছোবলের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন আকন্দবাড়িয়া গ্রামে এক বৃহৎ মাদকবিরোধী র্যালি ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা থানা লোকমোর্চা এবং আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির যৌথ আয়োজনে গতকাল ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ অপরাহ্ণে এই সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
বিজ্ঞাপন
“মাদকের আগ্রাসন দৃশ্যমান, প্রতিরোধেই সমাধান” এবং “পরিবার, সমাজ ও দেশ বাঁচাতে, মাদক রুখতে হবে একসাথে”—এই দৃপ্ত স্লোগান ও প্রতিপাদ্যকে পাথেয় করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সাধারণ অধিবাসী, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, নারী-পুরুষ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের মারাত্মক অপকারিতা এবং তা প্রতিরোধের আহ্বান সম্বলিত হরেক রকমের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজকাঠামোর জন্য চূড়ান্ত হুমকি সৃষ্টি করে। মাদকের এই সর্বগ্রাসী বিস্তার রোধে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার চেষ্টা যথেষ্ট নয়; এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে কোমলমতি তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণকামড় থেকে রক্ষা করতে পরিবারের অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জোর তাগিদ দেন তিনি।
পুলিশ সুপার আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধ চক্রের মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
উক্ত আলোচনা সভায় এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদকের বিষাক্ত ছাবল থেকে তরুণদের রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে পুলিশ প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

