স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা থেকে একটি মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের পিকআপ চুরির মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট। গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তভার পিবিআই স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করার পর এই সাফল্য আসে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক ৪টায় মো. জসিম উদ্দিন তাঁর মালিকানাধীন মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের সাদা রঙের পিকআপটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন পশ্চিম মেড্ডা (পীরবাড়ি) বাজারে পার্কিং করে লক করে বাসায় যান। এরপর সকাল আনুমানিক ৭টায় ফিরে এসে তিনি গাড়িটি চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে ভৈরব ব্রিজ টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই দিন সকাল ৬টা ৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে গাড়িটি ভৈরব অভিমুখে অতিক্রম করেছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৩৭৯ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (নম্ব্বর—০৭) রুজু হয়। পরবর্তীতে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং বর্তমানে এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন এটি তদন্ত করছেন।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৫টায় চাঁদপুর সদর থানাধীন মটকলা ওয়াপদা গেইট এলাকায় আহম্মদের গ্যারেজের সামনে থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফজর আলী হাসান (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফজর আলী হাসান এবং তাঁর সহযোগী পলাতক আসামি ফয়াজ আহমদ (৩৪) যৌথভাবে ওই পিকআপটি চুরি করেছিলেন। চুরির পর গাড়িটির আসল রঙ, ইঞ্জিন, চেসিস ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন করা হয় এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চোরাই তথ্য গোপন রেখে চাঁদপুরের সদর থানার এক ব্যবসায়ীর মধ্যস্থতায় চট্টগ্রামের মো. আবদুর রহমানের কাছে ৬ লাখ টাকায় সেটি বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্রয়লব্ধ অর্থ তারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।
বিজ্ঞাপন
আসামি ফজর আলী হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানাধীন স্টিলমিলসংলগ্ন খালপাড়ে আবদুর রহমানের হেফাজতে থাকা গ্যারেজের সামনে থেকে বাদীর শনাক্ত মতে চুরি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, গাড়িটির কেবিন হলুদ এবং মালবাহী বডি নীল রঙে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং সামনে-পেছনে “ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৬৪৭৬” নম্বরপ্লেট লাগিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গাড়িটির প্রদর্শিত ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করে পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিআরটিএর রেকর্ড এবং বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এছাড়া পলাতক সহযোগীসহ এই চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

