স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পৃথক স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র:
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু সংক্রান্ত তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সর্বোচ্চ ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন, বাঘারপাড়া, কেশবপুর ও শার্শায় ২ জন করে এবং মনিরামপুরে ১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ জনে। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩২২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং মোট ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জটিল অবস্থার কারণে আজ পর্যন্ত ৩০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর বা রেফার্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হাম পরিস্থিতির চিত্র:
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি সংগৃহীত ‘হাম রোগের দৈনিক প্রতিবেদন’ অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত এবং ২ জনের রক্ত/লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নিয়ে মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৯১৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আজ পর্যন্ত ১৪৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত (কনফার্মড) হয়েছে।
স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ৬৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৬১৬টি নমুনা পরীক্ষা ও সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবেদন দুটি প্রস্তুত করেছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো: শামসুল ফলাক এবং এতে স্বাক্ষর করেছেন সিভিল সার্জন ডা: মো: মাসুদ রানা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু দমনে মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
