স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছায় সার ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান লেন্টু ও তাঁর আপন স্বজনদের মধ্যকার পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ ও প্রতি-অভিযোগের জের ধরে গত চার দিনে পর পর চারটি সংবাদ সম্মেলন করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এই পরিবারটি।
বিজ্ঞাপন
প্রথমে আতিকুর রহমান লেন্টু নিজে সংবাদ সম্মেলন করার পরদিন তাঁর পিতা, ঠিক তার পরদিন পুনরায় লেন্টু নিজে সংবাদ সম্মেলন করেন। আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ লেন্টুর বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাৎ ও সার সিন্ডিকেটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরই আপন চাচা মো. ইছাহক আলী।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে চাচা ইছাহক আলী ভাইপো লেন্টুর বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে ইছাহক আলী দাবি করেন, লেন্টু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বিসিআইসির সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছিলেন এবং এলাকা জুড়ে একক সার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বর্তমানেও তিনি ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে নতুন করে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। শুধু তা-ই নয়, লেন্টু নিজের পিতা, ভাই ও চাচাদের মালিকানাধীন শত শত কোটি টাকার জমি এবং মূল্যবান দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চক্রান্ত করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবার ও স্বজনদের দাবিকৃত অর্থ-সম্পদ ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে নিঃস্ব করার চেষ্টা করছেন লেন্টু। ইছাহক আলী অতি দ্রুত পরিবারের আত্মসাৎকৃত অর্থ ও সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আতিকুর রহমান লেন্টু তাঁর চাচা ও ভাইদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং আসল সত্য তুলে ধরতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে, বিতর্কিত সার ব্যবসায়ী লেন্টুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নীতি নির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চৌগাছা থানা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম স্পষ্টভাবে দাবি করেন, “লেন্টু বিএনপির কেউ নন, তাঁর সাথে দলের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।”
থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জহুরুল ইসলামও একই সুরে বলেন, লেন্টু বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় প্রভাব বলয়ে থেকে ফায়দা লুটছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আউলিয়ার বলেন, “লেন্টুর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে দেখা প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লেন্টুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, আতিকুর রহমান লেন্টুর সার্বিক জালিয়াতি ও সম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে তাঁদের কাছে শক্ত প্রামাণ্য দলিল ও কাগজপত্র রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই তদন্তকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

