স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ব্যবসায়ী ছেলে আতিকুর রহমান লেন্টুর আনা মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ, জমি দখল ও সার কালোবাজারির গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জন্মদাতা পিতা আব্দুস সবুর।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছেলে লেন্টুর অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরেন ওই প্রবীণ পিতা।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সবুর অভিযোগ করেন, তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আতিকুর রহমান লেন্টু অসৎ উপায়ে নিজ পিতা, চাচা, আপন ভাই-বোন ও চাচাতো ভাইদের যৌথ ব্যবসায়ের অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর অর্থ-সম্পদ অবৈধভাবে একাই ভোগদখল করে আসছেন। এসব কষ্টার্জিত পাওনা ও সম্পদ ফেরত চাইতে গেলে লেন্টু উল্টো পরিবারের অসহায় সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা ঠুকে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত লেন্টু পরিবারের লোকজনের নামে ১২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবি করেন প্রবীণ এই ব্যবসায়ী। আত্মসাৎ করা এসব জমি ও সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
ছেলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে আব্দুস সবুর আরও জানান, আতিকুর রহমান লেন্টু অবৈধভাবে সার কালোবাজারির সাথে যুক্ত। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে তিন দফায় তাঁর গুদাম থেকে যথাক্রমে ৩৭, ২৭১ ও ১৫ বস্তা চোরাই ও কালোবাজারির সার আটক করা হয়। এসব অভিযানে তাঁকে বিপুল অংকের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং সর্বশেষ ডিলারশিপ বাতিলের আদেশ জারি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পিতা সবুর আক্ষেপ করে বলেন, “ছেলেকে এহেন অপকর্ম ও সম্পত্তি দখলের হাত থেকে বিরত থাকতে বললে সে আমাকে ও আমার ছোট ছেলেকে প্রকাশ্যে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি আমাকে শারীরিক মারধরের ঘটনায় আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।”
এমতাবস্থায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, লেন্টুর গ্রাস করা ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সার কালোবাজারিসহ সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জোর দাবি জানান।
তবে পিতার উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে আতিকুর রহমান লেন্টু দাবি করেন, “আমার পিতা শারীরিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। পরিবারের কতিপয় স্বার্থান্বেষী সদস্য তাঁকে ভুল বুঝিয়ে ও উসকানি দিয়ে প্রেসক্লাবে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে, যার কোনো সত্যতা নেই।”
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পিতার সাথে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে শফিকুল ইসলাম, ভাইপো তরিকুল ইসলাম, কাকোনা বেগম এবং আজমির রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।


