স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছায় প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থান খালি করার নামে উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) দেওয়া তিন মাসের স্থিতাবস্থার সুনির্দিষ্ট আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই ব্যবসায়ীদের দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, বিজ্ঞ আদালতের স্থগিতাদেশের আইনি মেয়াদ বহাল থাকা সত্ত্বেও আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে হঠাৎ ১০ থেকে ১২টি কাঁচাবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানঘর অন্যায়ভাবে ভাঙচুর চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আদালতের নথি ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, চৌগাছা কাঁচাবাজার এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ২০০৮ সাল থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈধ চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই জায়গায় সরকারি মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গত ২৪ মে তাঁকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করে স্থানীয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শফিকুল ইসলাম মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট জায়গায় দোকানপাট উচ্ছেদের ওপর ৩ মাসের জন্য কঠোর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “হাইকোর্টের দেওয়া ৩ মাসের স্থিতাবস্থার সময়সীমা এখনও আইনগতভাবে শেষ হয়নি। সুনির্দিষ্ট আইনি আদেশ প্রদর্শনের পরও স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি আমাদের দোকানপাটসহ বাজারের প্রায় ১০-১২টি দোকান বেআইনিভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মডেল মসজিদ নির্মাণ কমিটির অন্যতম সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন জানান, “সরকারি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সরকারি জায়গা থেকে পূর্বের দেওয়া উচ্ছেদ নোটিশ এবং আইনি নিয়ম মেনেই অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।”
এদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় কাঁচাবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।


