খুলনা প্রতিনিধি :
মাত্র এক প্লেট ভাত খেয়ে ফেলার মতো তুচ্ছ অজুহাতে খুলনায় চারতলা ছাত্রাবাসের ছাদে তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী ইসলাম নগর রোডের একটি ছাত্রাবাসে এই নৃশংস ও নির্মম ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ছাত্রের নাম আজমুল হোসেন (২১)। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কৃষক কুতুব উদ্দিনের বড় ছেলে। ঘটনার ১০ দিন আগে তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চারতলা ওই মেসে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র থাকেন। চারতলার ডি-২ কক্ষের বাসিন্দা ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদীর ভাত না বলে খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে আজমুলের ওপর চড়াও হয় মেসের কয়েকজন আবাসিক সদস্য ও বহিরাগত যুবক। মেসের রান্নার দায়িত্বে থাকা বুয়া নিষেধ করা সত্ত্বেও আজমুলকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে চারতলার ছাদে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।
একপর্যায়ে রাত পৌনে ১টার দিকে প্রতিবেশীরা বিকট শব্দ পেয়ে বাইরে এসে আজমুলকে গলির ভেতর রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের বাসিন্দারা দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজমুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চম্পট দেয় সঙ্গে আসা যুবকেরা।
চিকিৎসকরা জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অমানবিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর দুটি পাই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে জানান, রাত ১২টার দিকে ছেলের ফোন থেকেই অপরিচিত এক যুবক ফোন দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলে সরাসরি হুমকি দেয়। কুতুব উদ্দিন নিজের দারিদ্র্যের কথা জানিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও সকালে এসে ছেলের লাশ দেখতে পান। সন্তানহারা বাবার করুণ আকুতি— “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের বাড়ি অনেক দূরে। আমি কার কাছে আর কী বিচার চাইব? বিচার দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, আল্লাহর কাছেই বিচার সঁপে দিলাম।”
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। হরিণটানা থানা পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে। পরিবার লিখিত অভিযোগ না দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
