রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের ২ হাজার ৬২০ মিটার সংস্কার ও কার্পেটিং কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পে সরকারের নির্ধারিত শিডিউল ও কারিগরি মান তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট এবং ইটভাটার পরিত্যক্ত ‘ভাটা কুড়ানো ডাস্ট’ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
সম্প্রতি স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ চালানোর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। একই সময়ে সেখানে দায়িত্বরত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্য সহকারী মো. আসাদুজ্জামানও স্থান ত্যাগের চেষ্টা চালান।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্য সহকারী মো. আসাদুজ্জামান জানান, “সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু একা আমার পক্ষে তো আর কাজ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।” এ সময় তিনি উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দায় এড়িয়ে যান উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন রেজা। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
কাজের মান ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি “মিটিংয়ে আছেন” জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তাঁর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি বর্তমানে দাপ্তরিক প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
যোগাযোগ করা হলে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামিম হোসাইন জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়কের কাজে প্রকাশ্য অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটচাঁদপুরের সাবেক সভাপতি ও এনসিপির ঝিনাইদহ-৩ আসনের অ্যাম্বাসেডর মো. হৃদয় আহমেদ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে ওই সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন। হৃদয় আহমেদ বলেন, “জনগণের রক্তে উপার্জিত ট্যাক্সের অর্থে নির্মিত সড়কে এমন হরিলুট কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে মানসম্মত উপকরণ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।”
এলজিইডির কারিগরি বিধিমালা ও নথি অনুযায়ী, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান, স্তরভিত্তিক পরিমাপ এবং কারিগরি পরীক্ষার ওপর বাধ্যতামূলক গুরুত্ব আরোপের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানান, অনতিবিলম্বে অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট ছাড়া কোনোভাবেই কাজের চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করা যাবে না। ছবি সংগৃহীত।

