পিবিআই তদন্তে থোড় বড়ি খাড়া, বাদীনীই গ্রেফতার!

পিবিআই তদন্তে থোড় বড়ি খাড়া, বাদীনীই গ্রেফতার!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী মডেল মসজিদের সম্মানীয় ইমাম ও খতিবসহ তিনজনকে ১২ বছরের এক শিশুর কথিত ধর্ষণের কাল্পনিক মামলায় ফাসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন মামলার প্রধান বাদীনী নারী।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ ও সুনিবিড় তদন্তে ধর্ষণের আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত ওই নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন ওই নারী (মামলা নং-৮৬৪/২০২৫)। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মডেল মসজিদের খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির এবং আহমাদুল্লাহকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মামলায় বাদীনী দাবি করেছিলেন, তাঁর ১২ বছর বয়সী নাতনি মসজিদে আরবি পড়তে গেলে গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশের স্টোররুমে নিয়ে অভিযুক্ত তিনজন মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদালতের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়— কথিত ধর্ষণের কোনো অস্তিত্বই সেখানে ছিল না। মূলত চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা গল্প ফেঁদে এ মামলাটি করা হয়েছিল।

প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে মডেল মসজিদের খতিব তানভীর হোসেন বলেন, “মসজিদের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি হচ্ছিল। স্থানীয় মুসল্লিদের সহায়তায় উক্ত নারীর নাতিকে চুরি করার সময় হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। তবে বয়স কম হওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। সেই আক্রোশ ও প্রতিশোধ নিতেই আমাদের তিনজনের নামে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সম্মানহানিকর ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। পিবিআই-এর নিরপেক্ষ তদন্তে আমরা কলঙ্কমুক্ত হয়েছি।”

গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, “আদালত থেকে একটি জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলার পর পরোয়ানা আমাদের থানায় আসে। পর্যালোচনা করে দেখা যায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি উক্ত মামলারই বাদী। তাকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *