মাতৃহারা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতার হাত বাড়িয়ে দিলেন কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ

মাতৃহারা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতার হাত বাড়িয়ে দিলেন কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ

মো. মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া প্রসূতি স্বপ্না রানী দাসের রেখে যাওয়া অবুঝ দুই শিশুসন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। তাৎক্ষণিকভাবে শোকসন্তপ্ত ও অসহায় পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সহায়তা, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং জরাজীর্ণ বসতঘর মেরামত করে দেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানোর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বপ্না রানী দাস। অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর পর তিনি রেখে গেছেন মাত্র ২৮ দিন বয়সি একটি কোলের দুধের শিশুসহ দুটি অবুঝ সন্তান। মাতৃস্নেহ বঞ্চিত এই শিশুদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ও পরিবারের চরম দুরবস্থার চিত্র প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের। কালক্ষেপণ না করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান উপজেলার ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়নের কাকলাশ গ্রামে স্বপ্নার নিজ বাড়িতে। সেখানে পৌঁছে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রসূতির রেখে যাওয়া দুই শিশুসন্তানের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ সময় ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ ওই অসহায় পরিবারকে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা জানান। পাশাপাশি তাদের বসবাসযোগ্য বসতঘরটি দ্রুত মেরামত করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনও স্বপ্নার শিশু সন্তান দুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সমাজের সকল বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত সহযোগিতা ও মানবিক হাত বাড়িয়ে দিলে এই অবুঝ শিশু দুটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে। প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও সংবেদনশীল পদক্ষেপে এলাকায় প্রশংসার জোয়ার বইছে।

ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *