স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাভারণ বুরুজবাগান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি ও দাপ্তরিক সভায় আবারও ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মেহেদী হাসান জনি ও শফি উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী জোরপূর্বক সভা কক্ষে প্রবেশ করে রেজুলেশন খাতা ছিঁড়ে ফেলে এবং কমিটির সভাপতি তানজির ইসলাম খান কণির ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকরা নিরাপত্তা রক্ষায় বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত অ্যাডহক কমিটির সভা শেষে এ তাণ্ডব চালানো হয়। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ভীতি বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তানজির ইসলাম খান কণি জানান, সভা সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ার পরপরই মেহেদী হাসান জনি ও শফি উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সভার রেজুলেশন খাতা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে পুনরায় সভা আহ্বান করলে তাঁকে হত্যার সরাসরি হুমকি দেয়। এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্ষদের সভা শেষে কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে ঢুকে জোরপূর্বক রেজুলেশন ছিঁড়ে ফেলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে শিক্ষকসহ সকল কর্মীবৃন্দ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে গত ১২ আগস্ট যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে তানজির ইসলাম খান কণিকে সভাপতি করে বিদ্যালয়ের ৩ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু ১৮ আগস্ট প্রথম সভা চলাকালেও মেহেদী হাসান জনির নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে সভা পণ্ড করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শার্শা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা সত্ত্বেও পুনরায় এই হামলার ঘটনা ঘটল।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রেজুলেশন ছিঁড়ে ফেলার সতত্যা পাওয়া গেছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, শিক্ষা বোর্ডে অনুমোদিত একটি বৈধ কমিটি ভেঙে দেওয়ার এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অযৌক্তিক। তিনি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

