স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মনিরামপুরে গভীর রাতে জানালার স্টীলের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সকল সদস্যকে জিম্মি করে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে একদল সশস্ত্র ডাকাত। গৃহকর্তা ও স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে তারা।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মধ্যরাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উপজেলার সুন্দলপুর গ্রামের পেয়ারাতলা সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের বাসভবনে এ দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে মোশাররফ হোসেনের বোন রাফিয়া (৩৯), ভগ্নিপতি মনোয়ার হোসেন (৫০) ও তাঁদের সন্তানরা নিয়মিত বসবাস করেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সুসংগঠিত ডাকাত দলের এক সদস্য সুকৌশলে নিচতলার জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ শুনে ভগ্নিপতি মনোয়ার হোসেন জেগে ওঠেন এবং চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাইরে অপেক্ষমাণ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের আরও ৭ থেকে ৮ জন সশস্ত্র সদস্য ধারালো দা, হাঁসুয়া ও লোহার রড নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা পরিবারের সকল সদস্যকে এক ঘরে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ডাকাতরা নির্বিঘ্নে ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রব, স্টীলের ট্রাঙ্ক ও বক্সখাটের ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৩-৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয়। মালামাল লুট শেষে ডাকাত দলটি উপস্থিত স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পটকা ফুটিয়ে একটি পিকআপযোগে দ্রুত কেশবপুরের দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পুরো সুন্দলপুর গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পুলিশি উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পরপরই মনিরামপুর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু সাঈদ জানান, “খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ডাকাত দলকে শনাক্তকরণ এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।” ছবি সংগৃহীত।


