নড়াইল প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামীদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া পেজ খুলে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চারজন অনলাইন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে এই চক্রটি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপেও নিয়মিত যুক্ত ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (সিসিআইসি) ইউনিটের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে এই প্রতারকদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নড়াইলের কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে মারুফ শেখের ছেলে মাহমুদ সোহানুর রহমান ওরফে সোহেল (৩২), একই উপজেলার খড়রিয়া (উত্তরপাড়া) এলাকার হেদায়েত ইসলামের ছেলে রিফাত হোসেন (৩৫), যাদবপুর গ্রামের মৃত সামছুর শেখের ছেলে মো. ইয়ামিন শেখ (৩৮) এবং নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া গ্রামের মো. কাসেম আলীর ছেলে মো. মুসা কাজিম ওরফে বকুল আলী (৩২)।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারক চক্রটি ফেসবুকে বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের অনুকরণে অসংখ্য ভুয়া পেজ তৈরি করে আসছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ধামাকা ডিল ডটকম, টাটা মোটরস বাংলাদেশ, মোবাইল প্ল্যানেট, মবিফ্রিক বিডি, দারাজ মল বিডি, নাপতোল বিডি অনলাইন শপ এবং কাকলী ফার্নিচার বিডি। এসব পেজ থেকে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে আকর্ষণীয় পণ্য সরবরাহের ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করা হতো। পরে অগ্রিম হিসেবে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত তারা।
এছাড়াও, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে এই যুবকেরা বিডি ২২২, এ৮৮০, গুড১১১, এফবি৯৯, ৩৬৬বেট, উইনবিডিসহ আরও একাধিক অনলাইন জুয়ার অ্যাপে মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।
নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল মামুন শিকদারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় অনলাইন প্রতারক ও জুয়াড়িদের নির্মূল করতে মাঠে নামে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দীন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল গঠিত হয়। এই দলে এসআই রাজেশ কুমার দাশ, এসআই প্রসেনজিত ঘোষ, এসআই গোপাল চন্দ্র মণ্ডল, এসআই রাকিবুল হাসান এবং এসআই তোফায়েল হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন এবং সফলভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, আটটি বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোন, একটি টেলিফোন সেট এবং ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
নড়াইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনলাইনে ভুয়া পেজ খুলে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
