বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৬
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর সাথে শ্যামাপূজার সরকারি ছুটি যুক্ত হয়ে টানা তিন দিনের দীর্ঘ অবকাশ তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বঙ্গোপসাগরের ফেনিল ঢেউ এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ-সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ। পর্যটকদের এই বিশাল সমাগমে দীর্ঘ সৈকতজুড়ে যেন এক জমকালো উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের হোটেল ও মোটেলগুলোতে শতভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় পর্যটন খাতের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই কলাপাড়ার কুয়াকাটা উপকূলে পর্যটকদের আসা শুরু হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার সকালের আলো ফুটতেই জিরো পয়েন্টসহ পুরো বেলাভূমিতে পর্যটকদের বিচরণ লক্ষ করা যায়। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের বুকে সাঁতার কাটা, নীল জলরাশির সাথে আনন্দে মেতে ওঠা কিংবা বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সাথে লাল বালুচরে খেলায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে ছুটির দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। অনেকে আবার সৈকতের ছাতার নিচে বসে কিংবা অলস হেঁটে বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করছেন।
বিজ্ঞাপন
কেবলমাত্র প্রধান জিরো পয়েন্টেই পর্যটকদের উপস্থিতি সীমাবদ্ধ নেই; কুয়াকাটার মূল আকর্ষণ প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিস্তৃত সৈকতের লেম্বুরবন, ঝাউবন ও গঙ্গামতির চরের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের সমাগম ঘটেছে। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সাথে অবসর সময় কাটাতে সব বয়সের মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কুয়াকাটায় সমবেত হয়েছেন।
পর্যটকদের রেকর্ডসংখ্যক আগমনে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল, মোটেল, খাবার রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্প ও শামুক-ঝিনুকের দোকান, ফটোগ্রাফার এবং ছোট-বড় সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ততা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বেচাকেনায় ইতিবাচক গতি আসায় দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের এমন সন্তোষজনক উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন হাওয়া দিয়েছে।
অন্যদিকে, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পর্যটন কেন্দ্র ও সমুদ্রসৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে ভ্রমণপিপাসুরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ছুটি উপভোগ করছেন। ছবি প্রতিবেদক।

