নিজস্ব প্রতিবেদক,কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে সচেতন এলাকাবাসী। একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় জনতা এই পদক্ষেপ নেন।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আটককৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার বিদ্যাধরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (শরিফ)। তবে অপর আটক ব্যক্তির বাড়ি একই এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রামচন্দ্রপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই মোবাইল ফোন ও খুচরা চুরির ঘটনা ঘটে আসছিল। এই ধারাবাহিক চুরির কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি বাড়িতে মোবাইল চুরির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশের সময় সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ঘিরে ফেলে হাতেনাতে আটক করেন।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আটক হওয়া এসব ব্যক্তি আগেও এলাকায় বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। যদিও তাঁদের অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে স্থানীয় জনতার কাছ থেকে দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, রামচন্দ্রপুর গ্রাম থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে গত কিছুদিন ধরে এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটে চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রামচন্দ্রপুরসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
