এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়ে যশোর বোর্ড !

এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়ে যশোর বোর্ড !

শহিদ জয় :

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জন উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অবক্ষয় লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরে এই শিক্ষা বোর্ডে সার্বিক পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে, যেখানে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বমোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। বিগত ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। সার্বিক বিশ্লেষণে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেধা ও পাসের হারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে ছাত্রীরা। তবে উদ্বেগজনকভাবে বোর্ডের আওতাধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি, আর শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করতে পেরেছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান।

আজ শনিবার সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন।

প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার সর্বমোট ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী সরাসরি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৭১১৯ জন। পরীক্ষা চলাকালে অনিয়মের দায়ে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। দিনশেষে চূড়ান্ত মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দুই সূচকেই ছাত্রদের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। বোর্ডে ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১ হাজার ৫০২ জন, যা শতাংশের হিসাবে ৩৯ দশমিক ২৩। অন্যদিকে ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন, যাদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৮৭০ জনই ছাত্রী এবং ছাত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫৮ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বরাবরের মতোই প্রথম স্থানে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। এই বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন, যা মোট পাসের ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৫৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯১ জন, যার পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন, যেখানে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।

১০টি জেলার মধ্যে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জেলাভিত্তিক ফলাফলের শীর্ষে অবস্থান করছে যশোর। বিপরীতে মাত্র ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকায় সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে নড়াইল জেলা। অন্যান্য জেলার মধ্যে খুলনায় ৪৬ দশমিক ৬৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ এবং মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ মতে মূলত ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার ফলেই বোর্ডের সার্বিক পাসের হার এত নিচে নেমে এসেছে। বোর্ডের সচিব জানান এ বছর ইংরেজিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যেখানে বাংলায় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৭৩ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মফস্বল পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতাকেই তিনি এই ফলাফলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এই ফলকে বিপর্যয় না বলে প্রত্যাশিত ফল হয়নি বলে উল্লেখ করেন এবং আগামীতে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের আশ্বাস দেন।

চলতি বছর বোর্ডের আওতাধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কুষ্টিয়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ, মেহেরপুরের মোরেকা জাগরণ কলেজ, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ, খুলনার মডেল মহিলা কলেজ, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্দি কলেজ, যশোরের সবুজ পল্লী কলেজ, খুলনার ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ, মাগুরার গোপীনাথপুর এমএ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির, কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস, নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ। শতভাগ পাসের তালিকায় থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, খুলনার বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

গত চার বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যশোর বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিক নিম্নমুখী। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ছিল ৮ হাজার ১২২ জন। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ছিল ৯ হাজার ৭৪৯ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার কমে ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ হয় ৫ হাজার ৯৯৫ জন। আর ২০২৬ সালে তা আরও কমে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে নামার পাশাপাশি জিপিএ-৫ এসে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জনে।

বোর্ডের সচিব জানান গত বছরের মতো এবারও শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে এবং সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রয়োজনে সেসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক অধিভুক্তি বা স্বীকৃতি নবায়ন বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

বেনাপোলে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ী, কম্বল ও কসমেটিকস জব্দ

চৌগাছায় অনলাইন জুয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর : কালেক্টরেট অফিস কর্মী আরিফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযো...

এইচএসসি ফলাফলে ঝিকরগাছায় আবারও উপজেলার শীর্ষে সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ

যশোরে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি : মোট আক্রান্ত ছাড়াল ২২শ

কোটচাঁদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা!

এইচএসসিতে আবারও উপজেলার সেরা চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ

চৌগাছায় ভূগর্ভস্থ পানির পাশাপাশি এবার ধানেও মিললো অতিরিক্ত আর্সেনিক!

মণিরামপুরে ১ কেজি গাঁজাসহ কেশবপুরের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

যশোর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কন্দাল ফসলের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আঞ্চলিক কর্মশালা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *