ইমাম হোসেন সাগর, চৌগাছা (যশোর) :
যশোর বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সার্বিক পাসের হার ও সাফল্যের সূচকে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিলেও, বরাবরের মতো নিজেদের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে চৌগাছা উপজেলায় আবারও সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করেছে চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ।
প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই কলেজ থেকে এ বছর মোট ১৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১১৪ জন এবং সর্বমোট ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। কলেজটিতে এ বছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এমন অভাবনীয় ও ঈর্ষণীয় সাফল্যে কলেজটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ গোটা চৌগাছা এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।
উপজেলার অন্যান্য কলেজগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চৌগাছা উপজেলায় এ বছর বিভিন্ন কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে এসএম হাবিবুর রহমান পৌর কলেজে পাসের হার ৬৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, এবিসিডি কলেজে পাসের হার ৬৫ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন, পাশাপোল আমজামতলা মডেল কলেজে পাসের হার ৬০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, মৃধাপাড়া মহিলা কলেজে পাসের হার ৪৫ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং চৌগাছা সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া সলুয়া কলেজে পাসের হার ৪১ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই), ডাক্তার সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৩৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, জিসিবি আদর্শ কলেজে পাসের হার ৩০ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই), মাড়ুয়া ইউছুপ আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ২৫ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই), হাকিমপুর মহিলা কলেজে পাসের হার সাড়ে ১২ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই) এবং জেএমএসকে কলেজে পাসের হার ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই)।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রসঙ্গে চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম লিটু গণমাধ্যমকে জানান, যে মহান জাতীয় নেতার নামানুসারে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাঁদের নামের মর্যাদা ও শিক্ষার মান সবসময় অক্ষুণ্ণ রেখে চলেছে। এটি কোনো এক বা দুই বছরের সাফল্য নয়, বরং কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রতি বছর ধারাবাহিক ও গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল অর্জন করে আসছে। এমনকি অতীতে এই কলেজটি তিনবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের সেরা টপটেনের মধ্যেও স্থান লাভ করেছিল।
তিনি এই কৃতিত্বের পুরো অংশই উৎসর্গ করেন শিক্ষকবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের আন্তরিক পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতাকে। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে এবং আরও দৃষ্টিনন্দন ফলাফল উপহার দিতে তিনি সকলের দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। ছবি প্রতিবেদক।

